শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
নরসিংদীতে তিতাস গ্যাসের মূল পাইপলাইন ও চলাচলের সরকারি রাস্তা দখল করে এনকেএম হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্কুলের হাজারো শিক্ষার্থীসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগে বলা হয়, নরসিংদী স্টেডিয়ামের উত্তর পাশে তিতাস গ্যাসের মালিকানাধীন জায়গা ও মেইন পাইপলাইনের ওপর দিয়ে থাকা চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্কুল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন স্কুল চলাকালীন সময় পাইপলাইনের ওপর ও আশপাশে প্রায় দেড় শতাধিক বাস পার্কিং করে রাখা হয়, যা যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে স্কুলটির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা অবিলম্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তিতাস গ্যাসের ডাইরেক্ট পাইপলাইনের ঠিক ওপর এবং পাশের চলাচলের সরকারি রাস্তা দখল করে স্কুল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান ও যাতায়াত করছেন। অনেক শিক্ষার্থী আতঙ্কের মধ্যেই স্কুলে আসা-যাওয়া করছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিল্পপতি আ. কাদের মোল্লা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিতাস গ্যাসের জমি দখল করে এই স্কুল নির্মাণ করেন। স্থানীয়দের দাবি, তৎকালীন প্রশাসনের একটি অংশের সঙ্গে সখ্যতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এছাড়াও কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে নরসিংদী জেলা ক্রীড়া সংস্থার স্টেডিয়ামের জমি নামমাত্র মূল্যে দখলের অভিযোগ রয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্য জানান, তৎকালীন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আঁতাত করে প্রায় শত কোটি টাকার জমি লিখে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও কিছু অনুগত সংবাদকর্মীর ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খুলতে পারেনি। এর আগেও গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ অভিযুক্ত শিল্পপতিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, তিতাস গ্যাস পাইপলাইনের ওপর নির্মিত এই স্কুলে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে তার প্রভাব নরসিংদী জেলা কারাগার, তরোয়া, বিলাসদী ও স্টেডিয়াম এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদহানির আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিল্পপতি আ. কাদের মোল্লা ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউই কথা বলতে রাজি হননি। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তাও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।